গাংনী প্রতিনিধিঃ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের মাথায় চেয়ার তুলে আঘাত করে চেয়ার ভেঙেছে বিএনপির চেয়ারম্যান পদপার্থী মুতালেব। নিজ দলীয় চেয়ারম্যান দূর্নীতি গ্রস্ত, নানা অনিয়মে জরিয়েছে, নানা ঘটনায় সমালোচিত হয়েছেন তাই নির্বাচনে অন্য প্রার্থীর কথা বলতেই হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন এমন খবরে নিজের দলীয় আরেক প্রার্থী এগিয়ে এসে প্রতিবাদ করলে তাকেও হুমকি দিলে চেয়ারম্যানকে চেয়ার দিয়ে আঘাত করেছেন বলে দাবী করেন মুতালেব। ঘটনাটি ঘটেছে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের করমদি গ্রামের খালের ধারে। গত ২০ ডিসেম্বর সকালের এঘটনাটি দলীয় লোকজনের চাপেই ধামাচাপা দেওয়া হয়। সবার সামনে ঘটনা হলেও বিষয়টি নিয়ে গ্রামবাসী ও উভয় প্রার্থী নিশ্চুপ ছিলেন। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হলে ইউনিয়নের প্রধান খবরে পরিনত হয়। কেউ চেয়ারম্যানের সমালোচনা করেন। কেউ বা নতুন প্রার্থীর প্রতি। তবে অধিকাংশ মানুষই চেয়ারম্যানকে এমন অপমান করায় খুশি হয়েছে । এরই মধ্যে সাবেক ছাত্রদল নেতা মোতালেবকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে বিএনপি। অভিযোগ করা হয়, এতেই ক্ষেপেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম। বিভিন্ন দলীয় লোকজনকে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন বর্তমান চেয়ারম্যান। তারই ধারা বাহিকতায় গত কয়েকদিন ধরে করমদি গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে বিএনপি কর্মী নবীর আলীকে হুমকি দেয় বর্তমান চেয়ারম্যান। বিষয়টি নিয়ে নতুন প্রার্থী সাবেক ছাত্রদল নেতা এসএম আমিনুল বারী (মুতালেব) একই গ্রামের বর্তমান চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের সাথে আলাপ করতে গেলে তাকেও হুমকির স্বরে কথা বলেন বলে অভিযোগ করা হয়। ঘটনা সর্ম্পকে সাবেক ছাত্রদলের নেতা এস এম আমিনুল বারী (মুতালেব) বলেন, আমি তেতুলবাড়ীয়া ইউপি ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। এরপর কুষ্টিয়া সরকারী কলেজে ভর্তি হয়। সেখানে কলেজ ছাত্রদলের নেতৃত্ব দিয়েছি। হল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। পরে ২০০৪-৫ সালের দিকে গাংনী উপজেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হয়। এভাবে ছাত্রদলের নেতৃত্ব দিয়ে এসেছে বিনিময় কিছু চাইনি। দলের দূর্দিনে আমি নিজ এলাকার মানুষের থেকেছি। তাদের বিভিন্ন সমস্যা নিরসনে কাজ করে যাচ্ছি এমন অবস্থায় দলের কিছু লোকের অনুরোধে আমি বিএনপির প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়েছি। এ অবস্থায় আমার দলের ও আমার কর্মী নবীর আলীসহ বেশ কিছু লোকজনকে হুমকি দিচ্ছে বর্তমান চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম। হুমকির বিষয়ে গত ২০ ডিসেম্বর তারিখে বর্তমান চেয়ারম্যানকে জানতে চাইলে সে আমার লোকজনকে মারবে বলে ঘোষনা দিয়ে বলে কে ঠেকাবে তাদের মারলে। এ অবস্থায় আমি উত্তেজিত হয়ে তাকে চেয়ার তুলে আঘাত করি। বিষয়টি পরে আমাদের উপজেলা বিএনপির সভাপতি সবার অভিভাবক সমাধান করে দেয়। এবিষয়ে জানতে চাইলে তেতুলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বড় কোন ঘটনা না। তবে যে মেরেছে সেকি আপনাদের বলেছে যে আমি মেরেছি তাই বলে ফোন কেটে দেয়। এব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল হক বলেন, আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। দুজনে উত্তেজিত হলে আমি দৌরে গিয়ে নিয়ন্ত্রন করি। মারধর মনে হয় ঠিক নয়। যে মারধর করেছে সে যদি এ কথা স্কীকার করেছে যদি করে তবে ভুল করবে।